ব্লগ
রাজশাহীতে আম ব্যবসার হালচাল…
আমের ব্যবসা করতে গিয়ে প্রতিবারই মনে হয় আর করবো না। এই মনে হওয়ার বেশ কয়েকটা কারণ আছে।
প্রধান কারণ হচ্ছে এটা কাঁচামাল, আর নিজের বিশাল বাগান নেই। অন্যের বিশাল বাগান লিজ নেয়াও পসিবল না।
কেন নিজের বাগান নেই বলে আফসোস?
এটা যেহেতু কাঁচামাল, এটার বাহির দেখে বোঝার উপায় নেই ভেতরের অবস্থা। একই গাছে ভিন্ন কোয়ালিটির আম হয় আবার একই গাছের দেখতে একই দুইটা আমের একটা মিষ্টি হয় আরেকটা হালকা টক স্বাদ অথবা পোকা হয় ( যেহেতু ক্যামিক্যাল দেয়া থাকে না)
তো এইজন্য দুই একজন কাস্টমার মন খারাপ করেন। আর এই যে দুই -একজন কাস্টমার মন খারাপ করেন এটাই আমরা নিতে পারি না।
নিতে না পারারও কারণ আছে। আমাদের অন্যান্য জিনিসের নেগেটিভ ফিডব্যাক প্রায় শূণ্য বলায় চলে। তো সিজন্যাল এই একটা ফলের জন্য পেজের নেগেটিভ ফিডব্যাক আমাদের কাছে একজন ব্যবসায়িক হয়ে বিশাল পেরেশানির।
এই পেরেশানীটা কাটতো নিজেদের বাগান থাকলে। নিজেদের বাগান থাকলে আমের ভেতর দেখে দেখে দিতে পারতাম তাই ভাবছেন? না, নিজেদের বাগান হোক বা অন্যদের, আমের ভেতর দেখে দেয়ার সুযোগ নেই আসলে।
একই গাছে ভিন্ন আমের কোয়ালিটি হওয়া একেবারেই স্বাভাবিক। একবছর ভালো আম আরেকবছর নিম্ন কোয়ালিটির আম হওয়াও স্বাভাবিক।
তবে নিজেদের বাগান থাকলে যাদের আম নিয়ে বেশী কমপ্লেইন থাকতো বিনামূল্যে নিজেদের বাগান থেকে আম পাঠিয়ে তাদের খুশি করা যেতো। আমাদেরও শান্তি লাগতো।
নিজেদের বাগান না থাকায় এটা কেন করতে পারছি না?
কারণ আম এমন এক জিনিস এতে লাভের পরিমাণ থাকে কেজিপ্রতি ১০-২০৳। মানে আপনাকে ১০ কেজি আম দিলে আমাদের লাভ থাকে ১০০-২০০।
তো আপনার যখন ১-২ কেজি আম নষ্ট হয় আমরা যে ২ কেজির দাম রিফান্ড করবো সেটার জন্যও আমাদের আপনাকে ২৪০-৩০০৳ দিতে হবে।
তাহলে এতো পরিশ্রম দেয়ার পর এতো লস গুণতে কারই বা ইচ্ছে হবে।
বিশেষ করে যারা স্থায়ী ব্যবসায়ী তাদের কাছে এটা মেনে নেয়া সহজ না।
যাইহোক, এখন নিয়মিত আম বিক্রি হচ্ছে। আগ্রহীরা ফেসবুক পেজে অর্ডার করতে পারেন।
